Illustrated · 2 min
নিউটনের তৃতীয় সূত্র। ওটা কে না জানে, প্রত্যেকটি ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত মুখি প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
এই সূত্রটা সবাই জানে এবং কিছুটা বুঝেও বটে, কিন্তু বিজ্ঞানের কোন একটা বিষয় আপনি কত ভাল বুঝেন সেটা এই নয় যে আপনি কতটুকু পরিমাণে সেই থিওরিটা জানেন, বরং সেটাই যে আপনি কত কত পরিস্থিতি ওই থিওরির সাপেক্ষে ব্যাখ্যা করছেন। এখন আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিউটনের এই থার্ড ল এর প্রয়োগ দেখবো। তবে সবার আগে মনে রাখবেন ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বল দুইটা ভিন্ন বস্তুর উপরে কাজ করে।

caption
উপরের ছবিটা দেখুন । এখানে একটা গতিশীল বল দেয়ালের দিকে যাচ্ছে । এক পর্যায়ে তাদের মাঝে সংঘর্ষ হবে এবং বলটা দেয়ালটাকে একটা বল প্রয়োগ করবে। তারপরে কি ঘটবে? নিউটনের সূত্র অনুসারে আমরা জানি বলটি দেয়ালকে যেই পরিমাণ বল দেবে দেয়ালও ঠিক সে পরিমান বল দেবে। বলটির প্রয়োগকৃত বলে দেয়ালের কিছুই হবে না , দেয়ালের কোন তরণ সৃষ্টি হবে না , কেননা সেই বল দেয়ালের তুলানায় খুব খুব নগণ্য। এখন দেয়াল যে বলটিকে একটা বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেবে তার কারনে বলটি পেছনের দিকে সরে আসবে , অর্থাৎ বিপরীত দিকে একটি তরণ লাভ করবে , যা আমরা দেয়ালের দিকে বল ছুড়ে বুঝতে পারি , যে বলটা বাধা খেয়ে আবার ফিরে আসে। এখানে ক্রিয়া বলটা কাজ করে দেয়ালের উপরে আর প্রতিক্রিয়া বলটা কাজ করে ball এর উপরে। তবে মজার বিষয় ক্রিয়া বল তৈরি করে ball টি আর প্রতিক্রিয়া বল তৈরি করে wall টি ।

caption
এবার মনে করুন আপনি আপনার হাতের ব্যাট টি দিয়ে একটি গাছে আঘাত করলেন, বেশ শক্তিশালী একটা গাছে , এরপরে কি হবে? গাছটি অনেক শক্তিশালী, আপনার ব্যাট দিয়ে প্রয়োগ করা ফোরসে গাছের কিছুই হবে না , নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুসারে গাছে বল প্রয়োগ করার জন্য গাছও তেমনিভাবে ব্যাটকে একই পরিমাণ এবং ঠিক বিপরীতমুখী একটা প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করবে, এতে ব্যাটটি ভেঙ্গেও যেতে পারে। বলা যায় না।
ব্যাট – ক্রিয়া বল তৈরি করে। কিন্তু এর উপরে কাজ করে প্রতিক্রিয়া বল।
গাছ – প্রতিক্রিয়া বল তৈরি করে , কিন্তু এর উপরে কাজ করে ক্রিয়া বল।
এবার মনে করুন আপনি যদি আপনার কোন বন্ধুর মুখে ঘুসি মারেন তখন আসলে কি হয়? আপনার হাত যেমন বন্ধুর মুখে একটা বল প্রয়োগ করছে, বন্ধুর মুখও ঠিক সে রকমভাবে আপনার হাতে একটা বল প্রয়োগ করছে । মুখ সেনসিটিভ জায়গা তাই আপনার বন্ধু হয়ত অনেক ব্যথা পাবে কিন্তু আপনার হাত শক্ত পোক্ত জায়গা একই পরিমাণ বিপরীত বলে আপনার হাতের কিছুই হবে না , এবার বলুন তো এখানে ক্রিয়া বল আর প্রতিক্রিয়া বল কে তৈরি করছে?
আবার মনে করুন আপনি কোন একটা বস্তুকে F বলে টানছেন , বস্তুটিও আপনাকে ঠিক সেই পরিমাণ বলে পেছনে টানবে।
এখন আমরা কয়েকটা মজার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করি, মনে করুন আপনি আপনার কাঠের টেবিলের উপরে একটা বই রেখেছেন , বইটির ওজন ২০ নিউটন । সে টেবিলকে নিচের দিকে একটা বল প্রয়োগ করবে। টেবিলও বইটিকে উপরের দিকে একটা প্রতিক্রিয়া বল দেবে। যার মান ২০ নিউটন। বইয়ের প্রয়োগ করা ২০ নিউটন বলে বুঝলাম টেবিলের অনেক চাপ সহ্য করতে হচ্ছে। কিন্তু টেবিলের দেয়া ২০ নিউটনে বলে বইটির কোন তরণ হচ্ছে না কেন? বলুন তো ?
আবার মনে করুন একটি কাগজের টেবিলের উপরে বইটি রাখার সাথে সাথেই টেবিলটি ছিরে বইটি পরে গেল নিচে। এখানে কি বই কাগজের টেবিলকে তার ওজনের সমান বলই প্রয়োগ করেছে ? না কি তার চাইতে কম বেশিও প্রয়োগ করা চলে? আচ্ছা কাগজের টেবিলকে বইটি যেই বল দেয় , থার্ড ল অনুসারে, কাগজের টেবিলও ঠিক একই প্রতিক্রিয়া বল দেয় তবে, কাগজের টেবিলে বইটি স্থির হয় না কেন?
আর আমরা যে নিউটনের থার্ড ল তে প্রতিক্রিয়া বলের নাম ধরে চিৎকার চেঁচামেচি করছি এই প্রতিক্রিয়া বলটিই বা তৈরি হয় কি করে? এই প্রশ্ন গুলা নিয়েই পরের পর্ব লিখব , ততক্ষণে তোমরা ভাবতে থাক।


